গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবির এক সদস্য ও এক শ্রমিক নেতা আহত হয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও সফিপুর শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভে অর্ধশতাধিক যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য কবির হোসেন ও শ্রমিক নেতা ইলিয়াস হোসেন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও সফিপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান। ফলে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে যাওয়ার পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।