কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের লালজান পাড়ায় জহির আলম (৪৫) নামের এক লবণচাষিকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেল ও ছোরা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল ও ছোরাটি জব্দ করেন।
আহত জহির আলমকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি লালজান পাড়ার বজল আহমদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাখালী ইউনিয়নের রব্বত আলী পাড়ার সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে জহির আলমের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন দুপুরে সালাহ উদ্দিনসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে জহির আলমের বাড়ির সামনের সড়কে তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা মোটরসাইকেল ও ছোরা ফেলে পালিয়ে যান।
আহত জহির আলম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাথাখিলা এলাকার একটি জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি সালাহ উদ্দিন ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা করেন। এমনকি সেখানে গাছ ও টিন দিয়ে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তবে বাধার মুখে নির্মাণসামগ্রী ফেলে তারা চলে যান।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে থানায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি পরিমাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থাপনা নির্মাণের জন্য আনা মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সোমবার সকালে সালিশকারীদের মাধ্যমে কিছু মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জহির আলমের ভাষ্য, দুপুরে মাঠে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে আসামাত্রই মোটরসাইকেলযোগে সালাহ উদ্দিনসহ কয়েকজন এসে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। পরে তারা পালিয়ে যান।
পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) যতীন্দ্র বলেন, গত রোববার দুই পক্ষকে নিয়ে থানায় বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিরোধের সমাধানও করা হয়েছে। এরপরও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত জহির আলমকে দেখেছেন বলে জানান।




