টাঙ্গাইলের মধুপুরে গারো, কোচ ও বর্মণ জনগোষ্ঠীর অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এসব জনগোষ্ঠীর সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খোঁজার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মধুপুরের পীরগাছা থাংয়ানি ক্রেডিট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী ও কার্যকর কিছু করতে চান, যাতে তারা দীর্ঘদিন তাকে স্মরণে রাখেন। তিনি বলেন, তাদের সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার বিস্তারিত তথ্য লিখিতভাবে দিতে হবে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
মধুপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকায় ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও কাজের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জনগণের ভোট ও আস্থার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে তাদের সমস্যার সমাধানে আন্তরিক হতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আদিবাসী নেতাদের নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাসও দেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন জেংচারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদক, অজয় এ মৃ, আদিবাসী যুব ও ছাত্র প্রতিনিধি জুয়েল রেটিং এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।