জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা বসবাসের স্থান নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গড়ে উঠতে পারে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।
রোববার বান্দরবানের রাজার মাঠে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ ২০২৬’ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিসত্তার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পাহাড় ও সমতলকে পৃথক করে দেখার সুযোগ নেই; সব মানুষকে নিয়েই বাংলাদেশ।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা কিংবা বাসস্থানের কারণে মানুষের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করা উচিত নয়। অভিন্ন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার সবার রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তরিক বলে জানান তিনি।
সাচিং প্রু বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের পার্থক্য ভুলে সমঅধিকার, সৌহার্দ্য ও সাম্যের ভিত্তিতে ‘রেইনবো নেশন’ গড়তে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। এই লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার কাজ করছে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি আরও জোরদার করতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পার্বত্য অঞ্চলে বড় একটি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
বান্দরবান পৌরসভার উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।