কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমপি আতিক মুজাহিদ। তিনি বলেন, কোনো ইন্ডিয়ান প্রোডাক্ট দেশে থাকবে না, আওয়ামী লীগকে যেভাবে ইন্ডিয়ায় পাঠানো হয়েছে, ঠিক একইভাবে ইন্ডিয়ার প্রোডাক্ট মাদককেও পুশব্যাক করে দিতে হবে। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী গণমিছিল, মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটিকে মাদকের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ধন্যবাদ। আমি এই আন্দোলনে পাশে থাকবো।
এ সময় মাদকের সঙ্গে কোনো দলের নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়। এই সাথে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তালিকা তৈরির নিদর্শনা দেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য। এ আলোচনা সভার আগে বালারহাট বাজার থেকে একটি ‘মাদক বিরোধী গণমিছিল’ বের হয়।
মিছিলটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সীমান্তঘেষা বালারহাট-ফুলবাড়ী সড়কে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে মিলিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে মাদক প্রতিরোধ কমিটির অন্যতম সদস্য ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অলিউর রহমান নয়নের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান মজি, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সামছুল হুদা বাবুল মাস্টার,
জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাসুদ রানা ও উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক নাজমুল ফেরদৌস লাভলু, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার, বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার, ফুলবাড়ী আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদ আলম, বালারহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌরেন্দ্র চন্দ্র গোস্বামী প্রমুখ। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক মুসাব্বের আলী মুসা বলেন, আমাদের এ কর্মসূচিতে এলাকার মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও জানাচ্ছেন, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে বহিরাগত মাদকসেবীদের প্রকাশ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। এ ধরনের সামাজিক আন্দোলন ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে মাদকের বিস্তার আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাই ভবিষ্যতেও এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।