সিরাজগঞ্জে এবার ৫৫৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। জেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও এ কাজে সহযোগিতা করছে।
পালপাড়ায় ঘুরে দেখা গেছে, খড়, কাঠ ও সুতার তৈরি কাঠামোর ওপর মাটি দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীসহ বিভিন্ন প্রতিমার অবয়ব তৈরি করছেন কারিগররা। মাটির কাজ শেষ হলে প্রতিমা শুকিয়ে শুরু হবে রঙের কাজ।
প্রতিমা কারিগর শ্রীকান্ত পাল জানান, এবার তাঁর বাড়িতে ১৫টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি প্রতিমা ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।
সঞ্জীব পাল বলেন, পালপাড়ায় তৈরি প্রতিমার দাম ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। প্রতিমা তৈরির কাজে নারী-পুরুষ মিলিয়ে শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। পুরুষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকদের ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। একটি প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় ১০ দিন সময় লাগে।
কারিগররা জানান, সিরাজগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে পালপাড়ার প্রতিমা পাবনা, বগুড়া, নাটোর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।
জেলা ব্রাহ্মণ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি অশোক ব্যানার্জী জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, যুগে যুগে শ্রীশ্রী মা দুর্গা বিভিন্ন বিপদে মানুষের রক্ষা করেছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রয়োজনের সময়ে দেবী দুর্গা সবাইকে বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। এবার জেলায় ৫৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।




