বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। বিষপানে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতে জানাজা শেষে আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শাহারিয়া বর্তমানে কুয়েতে কর্মরত বলে পরিবার জানিয়েছে।
ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী শাহারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কারণে ঝুমুরকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার একমাত্র মেয়েসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন।
করিম খান অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, বরযাত্রী কম নেওয়া এবং ঝুমুর দেখতে সুন্দরী না হওয়ার মতো বিষয় নিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করা হয়। গত ৪ অক্টোবর রাতে ভিডিও কলের মাধ্যমে শাহারিয়া ঝুমুরকে গালিগালাজ করেন এবং বিষপান করে মারা যেতে বলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর পরিবারের অজান্তে ঝুমুর বিষপান করেন।
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিষপানের পর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা থেকে শুরু করে মৃত্যু ও দাফন পর্যন্ত ঝুমুরের স্বামীর পরিবারের কেউ তার পাশে ছিলেন না। জানাজায় উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে ঝুমুরের স্বামী শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ভাইয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।