জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এগ্রোইকোলজি চর্চা বাড়ানো এবং তা জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি এবং নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
মঙ্গলবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ল্যাবে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা: এগ্রোইকোলজিই পথ দেখায়’ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিসিপ্লিনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান। মূল উপস্থাপনা করেন বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম।
আলোচনায় অধ্যাপক তানভীর হোসাইন বলেন, উপকূলীয় ও সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা নানা সংকটে রয়েছে। সুন্দরবন কয়েক মাস বন্ধ থাকায় বনজীবীদের আয় কমে যায়, অথচ সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
শিক্ষার্থী নওশিন নোয়ার প্রমি বলেন, পরিবার ও কৃষিকাজে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। এগ্রোইকোলজি সম্প্রসারণের সঙ্গে নারীর কাজের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মোসাম্মত রওশন আরা বলেন, কৃষিতে নারীর অবদান দীর্ঘদিনের হলেও তাদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যাকে সরকারি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ড. তুহিন রায় বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ও রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার খাদ্যব্যবস্থায় নানা ঝুঁকি তৈরি করেছে। টেকসই কৃষি, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এগ্রোইকোলজির বিকল্প নেই।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি, পরিবেশ, নারী ও কৃষকের অধিকারকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। এগ্রোইকোলজির চর্চা ও নীতিগত স্বীকৃতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।