রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে কমিশনিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে ফিজিক্স টেস্ট বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদন পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়রার চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে ফিজিক্স টেস্ট শুরুর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, অনুমোদনের ফলে প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে। ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
এর আগে প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজড অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১২টি পরীক্ষা করা হয়। পরে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে পরীক্ষাতেও প্রাথমিক সমস্যা কাটিয়ে সফলতা পাওয়া যায়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এরপর কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে গিয়ে টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়ায় যাবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম শক্তিতে গ্রিডে যুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। গ্রিডে সংযোগের পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন সাত থেকে আট মাস চলতে পারে।
রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও দুই দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।




