দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা ও তার দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত স্বর্ণা বেগমের বাবা তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। ঘরের দেয়ালে লেখা রহস্যময় বার্তাসহ বিভিন্ন আলামত খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া এলাকার একটি ঘর থেকে স্বর্ণা বেগম (২৩), তার দুই বছরের ছেলে সাফায়েত হোসেন ও নয় মাস বয়সী মেয়ে রাইফা জুরাইনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ মরদেহগুলো থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন স্বর্ণার স্বামী শাকিল হোসেন (২৬), শ্বশুর মাহাতাব উদ্দীন (৫০) ও শাশুড়ি রজমত আলা তারাবিবি (৪২)। তারা চিরিরবন্দর থানা হেফাজতে রয়েছেন।
ঘরের দেয়ালে কচুপাতা দিয়ে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এ গল্প শেষ’। সেখানে আরও লেখা ছিল, ‘আমি অভাগী মা। আমার সন্তানদের নিজে মরছি। সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। লাশ পলাশবাড়িতে মাটি দেন। শাকিল যেন না ছোঁয়, বাবা-মা সরি।’ লেখাটির শেষে ছিল ‘আই লাভ ইউ’ কথাটিও। এই বার্তার পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে শাকিল ও স্বর্ণার বিয়ে হয়। শাকিল ইজিবাইক চালানোর পাশাপাশি মাদক কেনাবেচায় জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার সন্ধ্যার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাকিল ঘর থেকে বেরিয়ে যান। পরে স্বর্ণা ও দুই শিশুর মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা শাকিলের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
অমরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুর আলী শাহ জানান, তিনি একাধিকবার শাকিল ও স্বর্ণার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করেছেন। শাকিলের সঙ্গে তার বাবা-মায়েরও বিরোধ ছিল। এ কারণে বাড়ির মাঝখানে টিনের বেড়া দিয়ে বসতবাড়ি ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রাথমিক তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
নিহত স্বর্ণার বাবা খাইরুল ইসলাম চিরিরবন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ি গ্রামে স্বর্ণার বাবার বাড়িতে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য নুর আলী শাহ।