যমুনা নদীর ভাঙনে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে তিল চাষ এখন ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে। নদীর চরাঞ্চলের পলিমাটিতে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে তিল চাষের আগ্রহ বাড়ছে। বাজারে চাহিদা থাকায় দিন দিন বাড়ছে এ ফসলের আবাদও।
কাজীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯০ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৫০০ হেক্টরে। কৃষি বিভাগের আশা, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৫৪২ টন তিল উৎপাদিত হবে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই জমি থেকে তিল সংগ্রহ শুরু হবে।
যমুনার চরাঞ্চলে অন্য ফসলের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে তিল চাষ হচ্ছে। চরাঞ্চলের পলিমাটি এ ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকেরা ভালো ফলনের আশা করছেন। ইতোমধ্যে অনেক জমিতে তিল পরিপক্ব হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে শুরু করবেন।
নাটুয়ারপাড়া এলাকার কৃষক আজগর আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পাঁচ থেকে ছয় মণ তিল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। তিল চাষে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
যমুনার চরাঞ্চলের পানাগাড়ি গ্রামের তিলচাষি আবুল হোসেন, আলাউদ্দিন ও আব্দুস সোবহান জানান, আগের তুলনায় চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে তিলের আবাদ বেড়েছে। সহজ চাষাবাদ ও লাভের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকেরা এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
চরগিরিশ গ্রামের কৃষক জয়নুল হোসেন বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে তিল চাষ করেছেন। উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহার করায় ভালো ফলনের আশা করছেন। তার প্রত্যাশা, বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় মণ তিল পাবেন। বর্তমানে প্রতি মণ তিলের দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। সরকারি সহায়তা বাড়ানো হলে তিলের আবাদ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, তিল একটি তেলজাতীয় ফসল, যা আগে দেশে তুলনামূলক কম চাষ হতো। এখন ধীরে ধীরে এর আবাদ বাড়ছে। অপেক্ষাকৃত কম উর্বর জমিতেও তিল চাষ করা সম্ভব। এ ফসল উৎপাদনে খরচ ও শ্রম দুটিই তুলনামূলক কম লাগে। কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তিলের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও তাড়াশসহ বিভিন্ন উপজেলায় তিল চাষ হয়। কৃষকদের তিল উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায় ৭ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছিল, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি।