ঠাকুরগাঁওয়ে ১০৬ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৮ টাকা আদায় করে সমিতিতে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মিটার রিডারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. গোলাম কাদের (৩২) ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ‘মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার’ পদে কর্মরত ছিলেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) মো. গোলজার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সদর উপজেলার বোচাপুকুর এলাকার ১০৬ গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিলের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বকেয়া বিলের টাকা আদায় করেন গোলাম কাদের। পরে ওই ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৮ টাকা সমিতিতে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৭ আগস্ট থেকে গোলাম কাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বকেয়া বিলের কারণে গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হলে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তে অর্থ আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া যায় বলে সমিতি জানিয়েছে।
বোচাপুকুর এলাকার গ্রাহক মহসিন আলী বলেন, তিনি নিয়মিত প্রতি মাসের বিল পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এখন সমিতির পক্ষ থেকে ছয় মাসের বিল বাবদ ৩৫ হাজার টাকা বকেয়া দেখানো হচ্ছে।
একই এলাকার আকবর আলী বলেন, গোলাম কাদের কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিলের টাকা নিয়ে গেছেন। এখন আট মাসের বিল বকেয়া দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।
গৃহবধূ বিলকিস আক্তার বলেন, গোলাম কাদের বাড়িতে এসে বিলের টাকা নিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করে দিয়েছিলেন। এখন তাঁর সাত মাসের ২৬ হাজার টাকা বকেয়া দেখানো হচ্ছে।
মামলার বাদী মো. গোলজার হোসেন বলেন, গ্রাহকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এ কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৮ ধারায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম কাদের বর্তমানে পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তার ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।