সিরাজগঞ্জের চলনবিলে বর্ষার পানি নামতে শুরু করতেই ব্যাপকভাবে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শামুক আহরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছের খামারে সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া, ঘরগ্রাম, কুন্দইল, কামারশন, মাকড়শন, নাদোসৈয়দপুর ও মাগুড়া বিনোদসহ ২০ থেকে ২৫টি এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি নৌকায় শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। প্রতিদিন আহরণের পরিমাণ প্রায় দুই থেকে তিন টন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শামুক সংগ্রহ চলে। এবার বর্ষার পানি দেরিতে নামায় এ কার্যক্রম আরও প্রায় এক মাস দীর্ঘায়িত হতে পারে। সংগ্রহ করা শামুক স্থানীয় খামারিদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, বরিশাল, বাগেরহাট ও যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
বর্ষাকালে কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় অনেক দরিদ্র কৃষক ও মৎস্যজীবী শামুক সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ব্যবসায়ীদের দেওয়া ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে তাঁরা শামুক সংগ্রহ করেন। প্রতিদিন তিন থেকে চার বস্তা শামুক বিক্রি করে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। প্রতি বস্তা বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
ব্যবসায়ী আবদুল মমিন জানান, স্থানীয় ২০ থেকে ২৫ জন ব্যবসায়ী সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনে বিভিন্ন জেলার আড়তে সরবরাহ করেন। বর্ষার তিন থেকে চার মাস এ ব্যবসা চলে। তাঁদের দাবি, চলনবিলে প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার শামুক বেচাকেনা হয়।
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমারের মতে, শামুক জলজ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো খাল-বিল ও হাওর-বাঁওড়ে বংশবিস্তার করে এবং জলাশয়ের পোকামাকড় খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। মিঠাপানির মাছের খাদ্য হিসেবেও শামুকের গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শামুককে জলজ প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইন অমান্য করে শামুক নিধনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান থাকলেও কার্যকর প্রয়োগের অভাবে আহরণ বন্ধ হচ্ছে না। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




