সাজেক এলাকা থেকে সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণসহ পাচঁদফা দফা দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই লাগাতার অবরোধের কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির সার্বিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। সাজেক এলাকায় মানবিক বিপর্যয দেখা দিয়েছে।
গেল দুই সপ্তাহ ধরে চলা রাঙ্গামাটির সাজেক সংকট পাহাড়ের দুই এমপির মধ্যস্থতায় নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও একটি দাবী নিয়ে কোন সমঝোতা না হওয়ায় সাজেক সংকট আপাতত কাটছে না। তবে উভয়পক্ষই আশাবাদী খুব শীঘ্রই এ সংকট লাঘব হয়ে আবারো পাহাড় জুড়ে স্বস্তি ফিরে আসবে।
গত সোমবার সরকারি প্রতিনিধি দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তিন ঘন্টার বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় রাঙ্গামাটির সাজেকে চলমান সংকট কাটছে না।। তবে আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবির মধ্যে চারটি নিয়ে দুই পক্ষই সম্মত হলেও চার নম্বর দফায় আটকে যায় আলোচনা। ফলে বহুল প্রতীক্ষিত অবরোধ প্রত্যাহার করা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে 'সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএস এস সন্তু লারমা গ্রæপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সাজেক থেকে অতি দ্রæত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে'। তবে এই দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চান সরকার পক্ষ। কিন্তু কেবল তিন দিনের সময় দিতে সম্মত হন আন্দোলনকারীরা।
তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূইঁয়া বলেছেন,অবরোধকারীদের ৫টি দাবীর মধ্যে ৪টি দাবী সমঝোতা হয়েছে। একটি দাবী সমঝোতা হয়নি। আগামী দু’একদিনের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন,অবরোধকারীদের সাথে আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। তবে একটা বিষয় নিয়ে অমিমাংশিত,আশা করছি সেটাও সমাধান হবে। ওরাও শান্তি চায়,আমরাও শান্তি চাই।
আন্দোলনরত সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহŸায়ক বাবুধন চাকমা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কর্মকাÐ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দা ও পর্যটন খাতের বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অবরোধের সমর্থনে সাজেক সড়কের জনশূন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটারদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা না গেলেও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জানা যায় দীর্ঘমেয়াদী এ সমস্যার কারনে স্থানীয়দের মধ্যে এক প্রকার অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। কারন স্থানীয় জনসাধারন এ ধরনের কোন আন্দোলরই পছন্দ করেন না। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ।
গত সোমবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাতে আলোচনার পর সাজেক গনঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা এক ভিডিও বার্তায় বলেন তাদের পাচঁদফা দাবী না মানা পর্যন্ত সাজেক সড়কে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সমাধা না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত কারনে সাজেক ভ্রমনে না আসার জন্য নিরুৎসাহিত করেছেন।
এছাড়াও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ২২ অক্টোবর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে নতুন করে কোনো পর্যটক সাজেকে যেতে পারছেন না।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম জানান, বর্তমানে এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে