সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয় থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি ও কাটা জিআই তার ব্যক্তিগত কাজে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে এসব মালামাল জব্দ করে সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার প্রকল্প কার্যালয় থেকে একটি ট্রাকে করে খুঁটি ও তার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মাস্টাররোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীকে দিয়ে মালামালগুলো ট্রাকে তোলা হয়। পরে ট্রাকটি মাসুদ সরকারের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।
ট্রাকচালক আবদুর রহমান খন্দকার বলেন, খুঁটি ও তার কার, তা তিনি জানতেন না। তবে মাসুদ সরকার তাকে মালামালগুলো তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী তিনি মালামাল পরিবহন করছিলেন। কিন্তু এসব পণ্য পরিবহনের কোনো কাগজপত্র তাকে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
প্রকল্প কার্যালয়ের পাম্প অপারেটর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, কার্যালয়ের পুকুরে ওয়াল নির্মাণের জন্য খুঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করায় খুঁটিগুলো কার্যালয়েই ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ সরকার বলেন, তিনি নিজের টাকায় খুঁটি ও কাটা তার তৈরি করেছেন। তবে ব্যক্তিগত অর্থে এসব সামগ্রী তৈরির দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে।
সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল রব্বার বলেন, মৌখিক অভিযোগ ও সরেজমিনে তথ্য পাওয়ার পর প্রকল্প কার্যালয় থেকে বের করা খুঁটি ও তার জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তার তেমন কিছু জানা নেই, তাই তিনি মন্তব্য করতে চান না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ সরকার জানিয়েছেন, মালামালগুলো তার ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি। অন্যদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সেগুলো পাচার করা হচ্ছিল। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।