বাগেরহাটে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরীক্ষার রিপোর্ট গ্রহণ না করা এবং রিপোর্টের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নাক-কান-গলা (ইএনটি) চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক শেখ সোহেল।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায় মৎস্য অফিসের পেছনে ১ নম্বর ক্রসরোডে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ সোহেল এশিয়া পোস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক আগামী সময়ের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় দৈনিক সকালবেলার জেলা প্রতিনিধি শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ এবং পল্লিবাংলা অনলাইন পোর্টালের জেলা প্রতিনিধি শিমুলও ভুক্তভোগী বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আলেয়া বেগম কানের সমস্যার চিকিৎসা নিতে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি হেলথ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রিপোর্ট করিয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক রিপোর্টটি দেখতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন রোগী। তার দাবি, রিপোর্টটি টেবিল থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাকে সিটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছিল বলে জানানো হয়।
বিষয়টি রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে জানার পর সাংবাদিক শেখ সোহেল ও শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদ চিকিৎসকের চেম্বারে যান। অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট গ্রহণ না করার কারণ এবং পরীক্ষার ফলাফলে পার্থক্য নিয়ে তারা চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে চান। এ সময় চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের।
শেখ সোহেল অভিযোগ করেন, এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সাংবাদিক শেখ মাসুম বিল্লাহ আহমেদও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা আরেক ব্যক্তি জানান, সাংবাদিকেরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শেখ ইফতেখারুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক শেখ সোহেল অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।