নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্কে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভেনথাম ‘নাভি’ পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের নোবেল কমিটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভি পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে মার্কিন আইনজীবী ডেভিড স্কলনের ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত সমালোচনামূলক পোস্টটি শেয়ার করেন ট্রাম্প।
পোস্টে স্কলন দাবি করেন, পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার সিদ্ধান্তে পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান, হামাসের প্রতি নমনীয়তা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে পোস্টে বিস্তারিত প্রমাণ দেওয়া হয়নি। স্কলন নোবেল কমিটির আগের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার প্রসঙ্গও টানেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করেন স্কলন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং জিম্মিদের মুক্তির প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা, ইরানসংক্রান্ত পদক্ষেপ এবং গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগকেও পুরস্কারের যোগ্যতার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন স্কলন।
গত দুই বছর ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এ বছরও পুরস্কার ঘোষণার আগে নিজেকে এ সম্মাননার যোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি তার হাতে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।