চলতি বছরের গ্রীষ্মে তীব্র দাবদাহে ইউরোপজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষকদের এক হিসাবে উঠে এসেছে। এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে দাবদাহ ইউরোপে ক্রমেই বড় জনস্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠছে।
গবেষণা সাময়িকী *নেচার হেলথ*-এ প্রকাশিত দুটি পর্যালোচিত গবেষণাপত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের গ্রীষ্মে দাবদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ হাজার ৩৯১। গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি ও সময়সীমা অনুযায়ী, গত ২৬ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকদের বিশ্লেষণে, ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মৃত্যুর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা না হলে এসব অতিরিক্ত মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারত বলে তাদের ধারণা।
গবেষণায় ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। জুনের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত তাপমাত্রা ও দৈনিক মৃত্যুর সম্পর্ক পর্যালোচনা করে দাবদাহজনিত প্রাণহানির আনুমানিক হিসাব তৈরি করেন গবেষকেরা।
চলতি বছরের গ্রীষ্মে পশ্চিম ইউরোপের তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপে তাপের প্রভাব বেশি হলেও যুক্তরাজ্যসহ উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলও এর বাইরে ছিল না।
প্রবীণদের মধ্যে প্রাণহানির ঝুঁকি ছিল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মৃত্যু বেশি হয়েছে। তবে ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যেও অন্তত ৮০০টি মৃত্যুর সঙ্গে দাবদাহের সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে গবেষকদের হিসাব।
গবেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোসহ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তাপপ্রবাহকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। নির্গমন কমানো ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ইউরোপে দাবদাহজনিত প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন



