সুইজারল্যান্ডের জেনেভা অঞ্চলে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাইন নদী এবং নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধারের পর তদন্তে তার নাম উঠে আসে। নিহতের সঙ্গে একই আশ্রয়কেন্দ্রে একটি কক্ষে থাকতেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রসিকিউটররা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির বয়স ৩৩ বছর। তিনি বুরুন্ডির নাগরিক। গত শনিবার তার পরিচিতজনেরা নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরদিন নদীর কাছাকাছি একটি ব্যাগে মানুষের পা দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আশপাশের আরও কয়েকটি ব্যাগ থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে।
ঘটনার সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে অনুসন্ধান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংগৃহীত আলামত ও তদন্তের ভিত্তিতে ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি নিহত ব্যক্তির একই কক্ষের বাসিন্দা ছিলেন। পরে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাঁকে হেফাজতে নেয় আরগাউ ক্যান্টন পুলিশ।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত করে আবর্জনার ব্যাগে ভরা হয়েছিল। সেগুলোর কিছু নদীতে এবং বাকিগুলো নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে রাখা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য থাকার প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি। পাশাপাশি তদন্তের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তির আচরণে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণও পর্যবেক্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।