ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটির নতুন সরকার কারা গঠন করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। 
অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলে কোনো জোটই সেই সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে তাদের অবস্থান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেয়েছে। 
তবে জোটের আসনসংখ্যা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে কম থাকায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাকে নতুন রাজনৈতিক সমর্থন খুঁজতে হচ্ছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু সরকার থেকে সরে গেলে তার সামনে একাধিক আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলায় জবাবদিহির পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও সময় ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিয়ে তদন্তের চাপও বাড়তে পারে। 
আরব দলগুলো সরাসরি সরকারে অংশ না নিলেও বিরোধী জোটকে সংসদীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নতুন স্পিকার নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের অবস্থান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। গাদি আইজেনকোটও নির্দিষ্ট শর্তে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আরব জোট জয়েন্ট লিস্টের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আহমদ তিবি জানিয়েছেন, নতুন স্পিকার নিয়োগের বিষয়ে বিরোধী পক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে আরব দলগুলোর। 
এদিকে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিদেশি শক্তির সহযোগিতায় আরব দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিপরীতে বিরোধী দলগুলো বলছে, এসব অভিযোগের মাধ্যমে আরব জনগণকে হেয় করার পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আগামী বছরের শুরুতেই দেশটিতে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।