মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্ধারিত ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের সম্প্রচার যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে পারত। তবে অনেকে মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি দেখতে চান না—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিহতদের নিকটাত্মীয়রা চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস অপরাধের পরিণতি দৃশ্যমান হলে তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। কিন্তু পরিকল্পনাটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
দুই প্রধান দলের রাজনীতিকদের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতারাও এ নিয়ে আপত্তি জানান। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনসহ রিপাবলিকান নেতাদের কেউ কেউ সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা, মৃত্যুদণ্ডের ভিডিও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রচারণায় ব্যবহৃত হতে পারে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ওপর প্রভাব এবং নিহতদের স্বজনদের মানসিক কষ্টের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ক্যাথলিক সামরিক সদস্যদের আধ্যাত্মিক সেবার দায়িত্বে থাকা আর্চবিশপ টিমোথি ব্রগলি প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। পোপ লিওও মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেছেন। সমালোচকদের মতে, শাস্তি কার্যকর করার বিষয়টি আর সেই দৃশ্যকে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা এক নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোসের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপের এই ফলাফলে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন এবং তা প্রকাশ্যে দেখানোর বিষয়ে আপত্তির পার্থক্য উঠে এসেছে।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করেন হাসান। আহত হন আরও ৩২ জন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর এবং পেশায় মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। সামরিক আদালতে বিচারের পর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ১৯৩৬ সালে। রেইনি বেথিয়াকে ফাঁসি দেওয়ার সময় প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও বিরল; ১৯৬১ সালে সেনাবাহিনীর প্রাইভেট জন বেনেটকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রচার বাতিলের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রশ্ন উঠলেও পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে দুজনের আলোচনা হয়েছিল। তার দাবি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।
এদিকে, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার আইনজীবীর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বেসামরিক ফেডারেল আদালতে আপিলের সুযোগ থাকায় নতুন আইনি পদক্ষেপ এলে ৩ ডিসেম্বরের নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।




