ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে পেন্টাগনের একটি নথির বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এ হিসাব প্রকাশ করেনি। ফলে ব্যয়ের মোট পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।
রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন। নতুন হিসাব সেই অঙ্কের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় মজুত করতে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং হারানো উড়োজাহাজ, ড্রোনসহ সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব ব্যয় যুদ্ধের ঘোষিত মোট হিসাবের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হবে, তা স্পষ্ট নয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে দ্রুত অভিযান শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও সংঘাতের ব্যয় ও সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ব্যয়ের মধ্যে বিমান পরিচালনা ও সাইবার সহায়তার মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর মেরামত ব্যয় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সংঘাতের ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।



