সৌদি আরবে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডিত অংশ পশ্চিম সৌদি আরবের কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সৌদি সিভিল ডিফেন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ মক্কার বাইরের ওয়াদি মুঘামাস, জেদ্দার আল-নুযহা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিঘের একটি নির্জন এলাকায় পড়ে।
তবে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি পক্ষের বক্তব্যকে ‘চরম ও বিশাল মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনার আগে শনিবার সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ মক্কাসহ পশ্চিমাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সতর্কতা জারি করে। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, শুক্রবার ও শনিবার সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। তাদের দাবি করা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে তিনটি বিমানবন্দর, দুটি তেল কারখানা, একটি পাইপলাইন ও একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুই দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দাম্মাম ও নাজরানের বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিও তাদের লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সারি আরও দাবি করেন, পূর্ব থেকে পশ্চিমে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ব্যবহৃত পাম্পিং স্টেশন ও পাইপলাইনে আঘাত হানা হয়েছে।
তবে এসব হামলার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকেও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, দক্ষিণ ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর এডেনে কোস্টগার্ডের স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
একদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় পড়ার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে হুতিরা পবিত্র নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার দাবি করেছে তারা। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে হামলার প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।



