ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ধরপাকড় ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের মধ্যেও ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা ও ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা।
১০ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে নেহা বোরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লি হাটে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমর্থকদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রেল ও মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধের খবর পাওয়া যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীতে ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের আটকের ঘটনায় আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি পরিচালনায় বাধার অভিযোগ তুলেছেন। তবে পুলিশের বক্তব্য ও আটকের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নাগরিকের ভোটাধিকার। নির্বাচন কমিশনের দাবি, তালিকার ভুল এবং একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম সংশোধন করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। তবে বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সমস্যায় থাকা যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের মতে, আন্দোলনকারীদের আটক করলেই এসব প্রশ্নের সমাধান হবে না। অন্যদিকে, বড় জমায়েত ঘিরে আইনশৃঙ্খলা ও জনচলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি সামনে রেখেছে প্রশাসন। দিল্লিতে কর্মসূচির পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে বিক্ষোভের অনুমতি, আটক নেতাকর্মীদের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পরিবহনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হয়, তার ওপর।