ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আটক বা গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপক। তবে তিনি জানিয়েছেন, কোনো বাধাই তাকে আন্দোলন থেকে সরাতে পারবে না।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে অভিজিৎ বলেন, তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলে তিনি তার জন্য প্রস্তুত। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘যন্তর মন্তর ২.০ শুরু হয়ে গেছে’ লিখে কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ভোট চুরিতে সহায়তার অভিযোগও তোলেন এই নেতা।
১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড স্থাপন এবং বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের আটক করার খবরও সামনে এসেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ২০ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ২৩ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিবহনে কয়েক শ বাস এবং তাদের রাখার জন্য ১০টি স্টেডিয়াম চিহ্নিত করার খবরও এসেছে। তবে এসব ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও বাস্তবায়নের অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি, পুরোনো দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলেও প্রভাব পড়তে পারে।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের পর এই কর্মসূচি সামনে আসে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে। ককরোচ জনতা পার্টিও একই দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তার ওপর ভারতের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করতে পারে।




