স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একই সঙ্গে রেলব্যবস্থায় নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে তা দ্রুত দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনা নিয়ে বক্তব্যে সানচেজ বলেন, চলতি বছরের শুরুতে দেশটির একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এবারের দুর্ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
স্পেনের উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা ঘটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
 কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় রেল সংকেতব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলের ট্রেনগুলোকে থামার সংকেত দেওয়া হয়।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি ছিল ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ ও ‘ইরো ট্রেন’। প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি ট্রেন অন্যটির প্রায় ২৫ কিলোমিটার পেছনে ছিল। সামনে থাকা ট্রেনটি থেমে থাকলেও পেছনের ট্রেনটি এগিয়ে যায়।
স্পেনের সরকারি রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফের কাছে ট্রেন চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও পেছনের ট্রেনটিকে লাল সংকেত অমান্য করে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, ট্রেনটির জন্য নির্দিষ্ট গতিসীমাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে চলা ট্রেনটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনকে ধাক্কা দেয়।
তবে সংকেতব্যবস্থার ত্রুটি, ট্রেন চলাচলের অনুমতি এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল জানা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর রেল নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।