মার্কিন প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বাসভবনে ফেডারেল এজেন্টদের তল্লাশির নথিপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সংস্থা। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত বাসায় কেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালিয়েছে, তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে বলে মনে করছে তারা।
বৃহস্পতিবার একটি ফেডারেল আদালতে দাখিল করা আবেদনে তল্লাশি পরোয়ানা, তদন্তকারীদের হলফনামা, পরোয়ানা জারির আবেদন এবং অভিযানে জব্দ করা সামগ্রীর তালিকাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসও আলাদাভাবে নথি প্রকাশের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
গণমাধ্যমগুলোর যুক্তি, তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকরের পর সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে জমা পড়লে সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। এতে সম্ভাব্য তদন্তগত অপব্যবহার ঠেকানো, বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা তল্লাশির বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। ফলে তদন্তের গোপনীয়তা বজায় রাখার যুক্তি আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। তবে সংবেদনশীল তথ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে বাকি নথি প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানা নিয়ে ফেডারেল এজেন্টরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালান। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) এ অভিযান পরিচালনা করে। ওমরের শৈশবের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে তল্লাশি চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের সমালোচনা করে ওমর অভিযোগ করেছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওমরের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। মিনেসোটায় অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং সোমালি সম্প্রদায়কে ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়েও তাঁদের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১৯৯৫ সালে কিশোরী বয়সে পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নথি প্রকাশের এ আবেদন তদন্তের উদ্দেশ্য ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু




