যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে দেশটির আইনসভায়। মঙ্গলবারের ভোটে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে মেয়াদের বাকি দুই বছর বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাধার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের সুযোগ পাবে বিরোধী দল। এমনকি বিচারক ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে তাদের।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি ইস্যু প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে। সামরিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
পরাজয়ের পর নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছেন ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ফলাফল গ্রহণ করতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এ ছাড়া ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, প্রতিপক্ষ দল ভালো করেছে এবং নির্বাচনে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তবে এই ফলকে নিজের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে বিবেচনা করতে রাজি নন তিনি।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে বলে স্বীকার করলেও সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। বরং এ বিষয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলো।


