ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কানাডা, মেক্সিকো, কিউবা, চিলিসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত রানঅফ নির্বাচনে ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুলা। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বলসোনারো।
 তিনি নির্বাচন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। দুই প্রার্থীই অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লুলাকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, ‘গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক, ব্রাজিলের জনগণ জয়ী হয়েছে।’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও লুলাকে শুভেচ্ছা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, লুলার নেতৃত্বে কানাডা ও ব্রাজিলের সম্পর্ক এগিয়েছে। বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ানো, পরিবেশ রক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনের সময় বাড়ানো নিয়ে সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। 
তার অভিযোগ, ব্রাজিলে কোনো রক্ষণশীল সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। কিন্তু লুলার জয়ের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম নীরব রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স লুলার পুনর্নির্বাচনকে ‘অসাধারণ জয়’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লুলা শ্রমিক ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং আগামী চার বছরও সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। কংগ্রেসম্যান রো খান্না বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষ চরমপন্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তার মতে, ব্রাজিলে লুলার জয়ও সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। 
তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া এবং ব্রাজিলের নির্বাচনকে দুর্বল করার চেষ্টা না করার আহ্বান জানান। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের পরাজিত করা যায় না।’ ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের প্রেস দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার শক্তিশালী করা এবং কর্মজীবী পরিবারের উপযোগী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারে ব্রাজিলের পাশে থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল লুলার বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। 
তার মতে, এ জয় শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথে ব্রাজিলের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় ব্রাজিল কিউবার সহযোগিতা পাবে বলেও জানান তিনি। চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত জানিয়েছেন, তিনি লুলাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো ও আঞ্চলিক সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
 বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, বলিভিয়া ও ব্রাজিল প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। অভিন্ন ইতিহাস ও চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোও ব্রাজিলের জনগণকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য এবং লুলাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুই দেশের স্বার্থে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।