ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও চলাচলে বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর। পরিস্থিতিকে অনঘোষিত জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে তিনি ব্যঙ্গ করে ‘ইমার-জেনজি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা মানুষের সন্দেহ আরও বাড়াতে পারে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান থারুর। তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আরও ভালো গণতান্ত্রিক পরিবেশ পাওয়ার যোগ্য।
থারুরের দাবি, দিল্লিতে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড, চেকপোস্ট ও কংক্রিটের প্রতিবন্ধক বসানোর পাশাপাশি ট্রেন ও মেট্রো চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫০টি ট্রেন বাতিল এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকারের উচিত সেগুলোর জবাব দেওয়া। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করলে সন্দেহ কমার পরিবর্তে আরও বাড়তে পারে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের যাতায়াতে বাধা এবং তরুণদের আটকের খবর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল। দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর আগে দলটির নেতাসহ কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে থারুর প্রশ্ন তোলেন, বিক্ষোভকারীরা সোমবার আবার দিল্লিতে ফিরলে কর্তৃপক্ষ কি একইভাবে রাজধানী অবরুদ্ধ করে রাখবে? তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে মানুষের উদ্বেগের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।