সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে বেশ কঠিন সময় পার করতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বিশেষ করে পেসার হাসান মাহমুদ নিয়মিত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন আমির জাঙ্গু।
শুক্রবার নিজের ১৩৩ রানের ইনিংসের ইতি ঘটে হাসানের বলে বোল্ড হওয়ার মধ্য দিয়ে। তাঁর লড়াকু ব্যাটিংয়ের পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ৩৫৬ রানে। দিনের খেলা শেষে জাঙ্গু স্বীকার করেন, হাসানের ধারাবাহিক সঠিক লেংথে বল করার কারণে তাঁদের ব্যাটিংয়ের ছন্দ ব্যাহত হয়েছে।
১০০ রানের ঘরে থাকা অবস্থায় হাসানের একটি বল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয় জাঙ্গুর। পিচে পড়ে ভেতরের দিকে ঢুকে বলটি তাঁর স্টাম্প ভেঙে দেয়। জাঙ্গুর ধারণা ছিল, বলটি বাইরে সরে যাবে। নিজের সিদ্ধান্তের ভুল মেনে নিয়েও তিনি বাংলাদেশের এই পেসারের বোলিংয়ের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন।
ভারতের সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজের সঙ্গে সিলেটের উইকেটের পার্থক্য তুলে ধরে জাঙ্গু জানান, এখানে পেসাররা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। ভারতের তুলনায় সিলেটে বলের সিম মুভমেন্ট বেশি থাকায় ব্যাটিংয়ের কৌশলও বদলাতে হয়েছে। বলের গতিপথ বুঝে কিছুটা দেরিতে শট খেলার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।
৩৫৬ রান করলেও দলের প্রত্যাশা ছিল স্কোর ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে। দ্বিতীয় নতুন বল সামলানো কঠিন হতে পারে, সেটি আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজের ইনিংস আরও বড় করতে না পারায় আক্ষেপ থাকলেও দলের সংগ্রহে সন্তুষ্ট থাকার কথা জানিয়েছেন জাঙ্গু।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে সুইপ শট খেলতে গিয়ে আউট হওয়ার পরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না তিনি। নিজের শক্তির জায়গার ওপর আস্থা রেখেই পরিস্থিতি অনুযায়ী শট খেলার কথা জানিয়েছেন এই ব্যাটার।
এখন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস দ্রুত শেষ করাই ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য। জাঙ্গুর প্রত্যাশা, স্বাগতিকদের ২৫০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, উইকেট যত পুরোনো হচ্ছে ব্যাটিং তত সহজ হচ্ছে। তাই অযথা উইকেটের পেছনে না ছুটে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করাই হবে বোলারদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।




