হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ৮৫ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা। ফলে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে দুই দলের লড়াই এখন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় তাওহিদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করতে হয়।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান খরচায় ছয় উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে ছয় উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। তাঁর তোপে বড় সংগ্রহের পথে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ৩৫৬ রানেই থামে।
আগের দিনের চার উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল সফরকারীরা। আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের জুটি বেশ ভোগাচ্ছিল বাংলাদেশকে। তবে জাঙ্গুকে ১৩৩ রানে ফিরিয়ে ১০৬ রানের জুটি ভাঙেন হাসান। পরের বলেই অধিনায়ক রোস্টন চেজকে শূন্য রানে বিদায় করেন তিনি।
এরপর জশুয়া বিশপকে আউট করে নিজের পঞ্চম পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই পেসার। পরে শামার জোসেফকেও ফিরিয়ে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে গ্রিভস ৫১ রান করে দলের সংগ্রহ তিনশ ছাড়াতে ভূমিকা রাখেন। তাকে আউট করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ উইকেট হিসেবে জেইডেন সিলসকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। গোড়ালির চোটে সাদমান ইসলাম মাঠ ছাড়লে তার পরিবর্তে ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। কিন্তু ৫ রানেই জেইডেন সিলসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
তানজিদ হাসান তামিম ১৬ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ রান করে সাজঘরে ফিরলে ৫১ রানেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তানজিদকে ফেরান জাস্টিন গ্রিভস এবং শান্তকে বোল্ড করেন শামার জোসেফ।
এরপর আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি মুশফিক ও হৃদয়। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষে ৮৫ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। ফলে তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে স্বাগতিকদের।