মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও ঈদগাহকে ঘিরে একই স্থানে সমন্বিত কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যায়। তবে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, পরিচালনা এবং দানের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান ও দাতার শর্ত যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বৈধ আয়ের ব্যবস্থা থাকলে কমপ্লেক্সের পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন কার্যক্রম সহজ হতে পারে। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে মসজিদের ওপর বা নিচে মার্কেট, ইমাম-খতিব, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের আবাসন, অজুখানা, ইস্তিঞ্জাখানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। তবে এসব স্থাপনার কারণে মসজিদের পবিত্রতা, মর্যাদা ও ইবাদতের পরিবেশ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মসজিদের নির্ধারিত স্থান ও অন্যান্য স্থাপনার ব্যবহারও যথাযথভাবে পৃথক রাখতে হবে।
যৌথ তহবিল গঠনে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য যৌথ তহবিল গঠন করা যেতে পারে। শরিয়তসম্মত নীতিমালা অনুসরণ করে এ তহবিলের অর্থ কমপ্লেক্সের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করার ব্যবস্থা রাখা সম্ভব। তবে কোনো দাতা যদি নির্দিষ্টভাবে মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ দান করেন, তাহলে সেই অর্থের হিসাব আলাদা রাখতে হবে। দানের সময় নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে তা ব্যয় করা যাবে না। 
অর্থাৎ, মসজিদ নির্মাণের জন্য দেওয়া অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি মাদরাসা বা কবরস্থানের জন্য নির্দিষ্ট করা অর্থও সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। জাকাত ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের অর্থ ব্যবহারে সতর্কতা দরিদ্র ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহের জন্য মাদরাসায় লিল্লাহ বোর্ডিং তহবিল গঠন করা হয়। এ জন্য জাকাত, ফিতরা, কোরবানির চামড়ার মূল্যসহ বিভিন্ন অনুদান সংগ্রহ করা হতে পারে। তবে জাকাত ও ফিতরার অর্থ অবশ্যই শরিয়তের নির্ধারিত বিধান অনুসারে উপযুক্ত প্রাপকদের কাছে পৌঁছাতে হবে। 
এসব অর্থ মসজিদ নির্মাণ, সংস্কার কিংবা সাধারণ পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের অর্থও মসজিদের কাজে ব্যয় করা বৈধ হবে না। সুতরাং, মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কমপ্লেক্স গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র অধিকার, দাতার শর্ত এবং অর্থ ব্যয়ের শরয়ি বিধান রক্ষা করা অপরিহার্য। এতে দানের আমানত রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।