ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও নারী নির্যাতনের ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। 

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচলসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ওপর যেভাবে হামলা চলছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ লাখ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন।

 তবে ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর যেসব ঘটনা ঘটছে, তা উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। যে যার ধর্ম পালন করে থাকি, কেউ কারও ওপর জুলুম করি না। কিন্তু ভারতে মুসলমানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর তারা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশেও শান্তি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ভারতে হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সচেতন ও শিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


 সভায় বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এলবার্ট পি কস্তা বলেন, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। একটা সময় গেছে যে, ঈদের জামাতে শুয়োর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে দক্ষিণ ভারতে একজন ফাদারকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একইভাবে রানাঘাটে গত ৪-৫ বছর আগে একজন সিস্টারকে রেপ করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করে তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।