সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। এ ধরনের অনিয়মের কারণে সার বিতরণব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি।
তাঁর দাবি, দলীয় বিবেচনা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সারসংকট তৈরি হয়েছে। জামায়াতের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিবর্তে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ বিষয়ে কথা বলছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করার কারণে যোগ্য প্রার্থীদের ডিলার হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ১৪ জন সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় সারসংকটের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এক এলাকার বাসিন্দাকে অন্য এলাকায় ডিলারশিপ দেওয়া, সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ এবং ভুয়া গুদাম বা চুক্তিনামা ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। রংপুরের পীরগাছায় রাজনৈতিক দলের প্যাডে দেওয়া তালিকায় বিভিন্ন দলের নেতাদের নাম থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতের ছয় দফা দাবিদলটি সার ডিলার নিয়োগের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ডিলার নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ড, তালিকা তৈরির পদ্ধতি ও লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে। অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত, সারসংকট নিয়ে সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যাও চেয়েছে দলটি।
ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন। সংবিধান সংস্কার নিয়েও সরকারের অবস্থানের বিরোধিতা করে তিনি বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে সমাধানের আহ্বান জানান। সার, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্য বাড়ছে উল্লেখ করে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তিনি। তবে সার ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগগুলো জামায়াতের নেতার বক্তব্য হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। এগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।