দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিকাশে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী (এম এ হাদী) অনন্য অবদান রেখে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে দূরদর্শী ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করতে গেলে অধ্যাপক এম এ হাদীর নাম বিশেষভাবে উঠে আসবে। চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নের পাশাপাশি নার্স, টেকনোলজিস্টসহ পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে অধ্যাপক এম এ হাদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফার্ড রোগীদের জন্য বছরের প্রতিটি দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নতুনত্ব আনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী গবেষণার পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মৌলিক ও ব্যবহারিক গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
স্মরণসভায় বক্তারা অধ্যাপক এম এ হাদীর সময়নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল হাদী। ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৭৩ সালে বিসিপিএস থেকে সার্জারিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কর্মজীবনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমানসহ চিকিৎসা অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও মরহুমের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।




