শিল্পাঞ্চল অশান্ত করার মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করতে নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চলছে আগামী ডিসেম্বর ঘিরে। শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর যৌক্তিক দাবিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শিল্পাঞ্চল অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে বহুমুখী তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। এমন তথ্য রয়েছে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ও ডিসেম্বর ঘিরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি নিজ দলীয় সাংগঠনিক উৎস থেকে সরকার তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। আর এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশব্যাপী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা নিয়ে গেল রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জরুরি বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। ডিসেম্বর সামনে রেখে দেশে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো চক্রান্ত সফল হতে না পারে—সেজন্য করণীয় ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতার নেপথ্যে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কতিপয় নেতা সম্পৃক্ত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের যেসব নেতা ও ব্যবসায়ী তৈরি পোশাক কারখানার মালিক, তাদেরও সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। অন্যান্য খাতের আওয়ামী লীগ-সমর্থক কিছু ব্যবসায়ীও পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের তেমন সম্পৃক্ততা নেই। শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্য ছিলেন- এমন কিছু শিল্পমালিকও জড়িতঅস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনেক মুখোশধারী আন্দোলনে ঢুকে নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করছে। সরকারের কাছে যেসব তথ্য আছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, রপ্তানি বাণিজ্যকে এবং গার্মেন্টসের উৎপাদনকে ব্যাহত করতে নিরীহ গার্মেন্ট শ্রমিকদের ব্যবহার করে অনেকেই সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। গত কয়েক দিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং শিল্প খাত ধ্বংস করতে সুযোগসন্ধানীরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে অনুপ্রবেশ করেছে। তারা ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।
এদিকে ডিসেম্বর সামনে রেখে নৈরাজ্য সৃষ্টির সব ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের মিত্র দল-জোটগুলোও সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলে জানা গেছে। এর প্রতিফলন অবশ্য ইতোমধ্যেই দেখা গেছে সাভারের আশুলিয়ায়। তবে, নৈরাজ্য প্রতিরোধ করতে গিয়ে দল ও মিত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা নিজেরা যেন কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়েন, সেই নির্দেশনা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক অসন্তোষ সামাল দিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে দিয়েছে সরকার। শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যূনতম নতুন বেতন নির্ধারণ করবে এই বোর্ড। ওদিকে শ্রমিকদের জান-মালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রকৃত ও নিরীহ শ্রমিকদের কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের কারণে গ্রেফতারকৃতদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থা করবে সরকার।




