চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দের ২ শতাংশও ব্যয় করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ। অথচ এ বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে এমন ধীরগতি প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় করেছে মাত্র ১০৭ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার মধ্যে খরচ করেছে ১০২ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
একই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের অগ্রগতি জাতীয় গড়ের নিচে। এই হিসাবের বাইরে দুই বিভাগের জন্য রাখা ২৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকার ব্লক বরাদ্দ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, ওই বরাদ্দ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।
চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ এডিপিতে মোট ৩৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা পেয়েছে। গত অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য ১৮টি প্রকল্পে ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা এবং ব্লক বরাদ্দে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৫টি প্রকল্পে বরাদ্দ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা; ব্লক বরাদ্দ ২ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক প্রকল্প প্রস্তুতির ঘাটতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতাকে এ ধীরগতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি, জনবল নিয়োগ এবং পরামর্শক ও ঠিকাদার নিয়োগে বিলম্বের কারণে অনেক প্রকল্পের কাজই শুরু হয়নি। তিনি প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গত অর্থবছরেও দুই বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক কম ছিল। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ব্যয় করেছিল বরাদ্দের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৩৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। ওই বছর জাতীয় গড় ছিল ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এদিকে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে সরকার মোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০১ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশ ছাড়ালেও উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এ এন এম বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, আইএমইডির প্রতিবেদনটি তিনি এখনো দেখেননি। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীর কাছ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




