বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর আবারও আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবরের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুশ্রী মন্তব্য করেছেন, ‘শয়তানের মৃত্যু হলো।’
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় ৭৫ বছর বয়সে মারা যান নানা পাটেকর। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তনুশ্রীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। লখনৌয়ে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে অভিনেতার মৃত্যুর খবর পান তিনি। প্রথমে সংযত থাকলেও পরে নানা পাটেকরের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন, ‘খবরটা শুনলাম। যিনি চলে গেছেন, চলে গেছেন। তবে এমন একটা দিনে ঘটনাটা সত্যিই অদ্ভুত। আজকের দিনটি আমার লখনৌয়ের অনুষ্ঠান এবং তা সফল করার জন্য। শয়তানের মৃত্যু হলো—এটাই বলব।’
২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। ২০১৮ সালে বিষয়টি নতুন করে সামনে এলে ভারতে ‘মিটু’ আন্দোলন জোরালো হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নানা পাটেকর বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০১৯ সালে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে পুলিশ মামলাটি বন্ধের সুপারিশ করে। তবে এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানান তনুশ্রী। তার অভিযোগ, মামলার প্রধান সাক্ষী—তৎকালীন মেকআপ শিল্পী—আদালতে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সাক্ষ্য দেওয়ার নির্ধারিত দিনেই মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাক্ষী ও তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তনুশ্রীর আরও অভিযোগ, ‘মিটু’ আন্দোলনের পর তাকে দীর্ঘদিন হয়রানি ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ এবং ঘুষের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। নানা পাটেকরকে অহংকারী আখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তিনি থামছিলেন না। ঈশ্বর নিজেই তার জীবন শেষ করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তনুশ্রী। নানা পাটেকর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পুরোনো অভিযোগ ও মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে তনুশ্রীর বক্তব্যের পর অভিনেতার মৃত্যু নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।