ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এমফিল গবেষণা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করার হার বেশ কম। ভর্তি হওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গবেষণা শেষ করতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৪-২০১৫ থেকে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৬৭ জন। তাঁদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সময়ের হিসাব অনুযায়ী ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন মাত্র ৪৭১ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে এমফিল শেষ করার হার প্রায় ২৭ শতাংশ। বাকি ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ করতে পারেননি।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর অনেককেই জীবিকার তাগিদে চাকরি কিংবা উপার্জনের পথ বেছে নিতে হয়। ফলে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, এমফিল গবেষণাকে গতিশীল করতে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর মতে, অনেক শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হওয়ার পর চাকরির প্রস্তুতি নেন। কেউ আবার খণ্ডকালীন কিংবা পূর্ণকালীন চাকরিতে যুক্ত হন। জীবনযাপনের ব্যয় মেটানোর চাপ থাকায় গবেষণা তাঁদের অগ্রাধিকারে থাকে না।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় অনুদান ও প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভর্তি প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। শিক্ষকদের মধ্যেও এমফিল কার্যক্রমে আগ্রহ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই গবেষণা কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দেবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এমফিল প্রোগ্রামের মেয়াদ দুই বছর। প্রথম বছরে পাঠ্যক্রম ও দ্বিতীয় বছরে থিসিস সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। পুনঃভর্তিসহ নিবন্ধনের সর্বোচ্চ মেয়াদ তিন বছর। আগের নীতিমালায় এ সময়সীমা ছিল চার বছর।
শিক্ষাবর্ষভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ২৪৮ জনের মধ্যে ৭১ জন, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ৩০৩ জনের মধ্যে ৫১ জন এবং ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ১৯৭ জনের মধ্যে ৭৩ জন পরবর্তী নির্ধারিত শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। একইভাবে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ২১১ জনের মধ্যে ৭৮ জন এবং ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ২০৬ জনের মধ্যে ৬৮ জন গবেষণা শেষ করেন।
এদিকে, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে এমফিলে ভর্তি হন ৬৪ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী হিসাবকালেই ওই ৬৪ জনের ডিগ্রি সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বাসসকে বলেন, এমফিলের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একদল শিক্ষার্থী ডিগ্রি শেষ করতে পারলেও অনেকে তা পারছেন না। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিবেশ উন্নত করতে হলে শুধু সময়সীমা নির্ধারণ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক নিরাপত্তা, শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারলেই এমফিল কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি সম্ভব।