শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় আগে দেওয়া নির্দেশনাগুলো আবারও সামনে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের কার্ডের পণ্য, চুক্তি, লেনদেন, ফি ও পরিচালনার প্রতিটি পর্যায়ে শরিয়াহর নীতি অনুসরণ করতে হবে। প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে কর্জ ও উজরাহ বা সেবামূল্যভিত্তিক কাঠামো অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নির্দেশনাগুলো তুলে ধরা হয়। এতে কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, নগদ অর্থ উত্তোলন এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো লেনদেনে কর্জে হাসানার নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সব কার্যক্রমে শরিয়াহর নীতি অনুসরণ
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের চুক্তি থেকে শুরু করে গ্রাহকের লেনদেন, ফি নির্ধারণ ও পরিচালনব্যবস্থা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে শরিয়াহর বিধান মানতে হবে। ব্যাংকগুলোকে সুদভিত্তিক লেনদেন এড়িয়ে সেবামূল্যভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করতে হবে।এ ধরনের কার্ডের মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবার লেনদেন করা যাবে না। নির্দেশনায় মদ, জুয়া ও তামাকের মতো পণ্য ও সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু কার্ড পরিচালনার পদ্ধতি নয়, গ্রাহক কী ধরনের লেনদেন করছেন, সেটিও প্রযোজ্য নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
নগদ উত্তোলনে শতাংশের হিসাবে ফি নেওয়া যাবে না
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি আরোপ করা যাবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কত টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে, তার ওপর শতাংশের হিসাবে ফি নির্ধারণ করা যাবে না।এর অর্থ হলো, নগদ উত্তোলনের জন্য ব্যাংককে নির্দিষ্ট পরিমাণ সেবামূল্য ধার্য করতে হবে। উত্তোলিত অর্থের পরিমাণের সঙ্গে সরাসরি আনুপাতিক হারে ফি বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
ফি পরিবর্তনের আগে গ্রাহককে জানাতে হবে
কার্ডের ফি বা চার্জে কোনো পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিলে ব্যাংককে অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানাতে হবে। এর ফলে গ্রাহকরা আগেই নতুন ফি সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।
মুদারাবাভিত্তিক আমানত ব্যবহারে বিধিনিষেধ
কার্ড পরিচালনার জন্য গ্রাহকের মুদারাবাভিত্তিক সঞ্চিত আমানতের অর্থ ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুদারাবা হলো এমন একটি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে বিনিয়োগ ও মুনাফা বণ্টন করা হয়। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় তহবিল ব্যবস্থাপনাও শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে।
লেনদেনকে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচনা
নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, নগদ অর্থ উত্তোলন ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো লেনদেন কর্জে হাসানার নীতির আওতায় পরিচালিত হবে। ঋণ দেওয়ার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা আদায় করা যাবে না।বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের পরিচালনায় শরিয়াহসম্মত কাঠামো বজায় রাখা এবং গ্রাহকের জন্য ফি, চার্জ ও লেনদেনের নিয়ম আরও স্পষ্ট করা। তবে কোনো নির্দিষ্ট কার্ডের ফি বা শর্ত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রকাশিত নীতিমালা ও চুক্তিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।




