ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পুনর্বহাল ও ছাঁটাই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাজপথে নেমে মানববন্ধন করেছেন। 
২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পঁচিশে জুন থেকে আঠাশে জুলাইয়ের মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন। 

এর মধ্যে ৪ জন উপ-মহাব্যবস্থাপকও (ডিজিএম) রয়েছেন। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আরও প্রায় ১৪০ জন কর্মীর একটি তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাদের ধাপে ধাপে ছাঁটাই করা হতে পারে। কোনো প্রকার কারণ দর্শানো বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় একে শ্রম আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্দোলনকারীরা। 

ব্যয় সংকোচনের কথা বলে পুরোনো স্থায়ী কর্মীদের ছাঁটাই করা হলেও, ডিএসই পরবর্তীতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও স্বেচ্ছাচারী বলে দাবি করা হচ্ছে। চাকরিচ্যুতরা দ্রুত স্বপদে পুনর্বহালের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা, অর্থসচিব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি (BSEC)-এর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ছাঁটাই কোনো তাৎক্ষণিক বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নয়। ২০২২ সাল থেকে চলমান ডিএসইর দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আধুনিকীকরণ (Restructuring) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের কম (১৭ জন) পদের পরিবর্তন ও ছাঁটাই করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনি উপায়ে এবং কোনো ব্যক্তিগত পক্ষপাত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।