আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম, করের হিসাব কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল করা যায়। এ জন্য সরাসরি কর কার্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন থাকলেই যে সবাইকে আয়কর দিতে হবে, তা নয়। কারও আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলে তার কর পরিশোধের প্রয়োজন নাও হতে পারে। 
তবে আইন অনুযায়ী যাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দাখিল করতে হবে। কর প্রযোজ্য না হলেও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা বা অন্যান্য আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। জমি নিবন্ধন, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ধাপগুলো হলো—
১. ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সাইটে থাকা নির্দেশনা ও গাইডলাইন মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন।
২. অ্যাকাউন্টে প্রবেশ বা নিবন্ধন: আগে অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলে টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। নতুন ব্যবহারকারী হলে ‘রেজিস্ট্রেশন’ অপশন নির্বাচন করে নিবন্ধন শুরু করুন।
৩. পরিচয় যাচাই: নির্ধারিত ঘরে টিআইএন ও প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বর দিন। এরপর নির্দেশনা অনুসারে তথ্য যাচাই করে মোবাইলে পাঠানো ওটিপি কোডের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করুন। পরে একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।
৪. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ: লগইন করার পর নিজের নাম, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য দিন। সব তথ্য সঠিক আছে কি না যাচাই করে সংরক্ষণ করুন।
৫. রিটার্ন ফরম পূরণ: ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অংশে গিয়ে প্রযোজ্য ফরম নির্বাচন করুন। চাকরি, ব্যবসা বা অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করুন। প্রতিটি ধাপে তথ্য যাচাই করে ‘সেভ অ্যান্ড কন্টিনিউ’ নির্বাচন করুন।
৬. করের হিসাব দেখা ও পরিশোধ: প্রয়োজনীয় সব তথ্য পূরণ করার পর ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে প্রযোজ্য করের হিসাব দেখতে পারবেন। কর দিতে হলে নির্ধারিত পেমেন্ট অপশনের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করুন। কর প্রযোজ্য না হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে রিটার্ন দাখিল করুন।
৭. জমার প্রমাণ সংরক্ষণ: সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে রিটার্ন সাবমিট করুন। জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, রিটার্নের কপি এবং কর পরিশোধ করা হয়ে থাকলে তার প্রমাণ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, আয়, সম্পদ ও দায়ের বিবরণ নির্ভুলভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফরম পূরণের আগে এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।