সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। ঝুঁকি পুরোপুরি কমেছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইট চালু না করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও রোববার সকালে সাইটটি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। শনিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ওয়েবসাইট চালুর প্রস্তুতি রয়েছে।
তবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্বব্যাপী সাইবার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। পাঁচ দিনের ছুটি শেষে রোববার ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে সাইটটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্কতা
বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ঝুঁকিতে থাকা ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট করা সম্ভব না হলে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এর পর বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র এর আগে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট টিমও শনাক্ত হওয়া দুর্বলতা সংশোধনে জরুরি নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশের কথা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই ধরনের ঝুঁকির কারণে ইউরোপের কিছু সরকারি সংস্থাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সচল
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইট বন্ধ থাকলেও আর্থিক খাতের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট চালু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে বিজিডি ই-গভ সার্ট বা সিআইআরটি। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছিল, পিএইচপি প্রযুক্তিতে পরিচালিত সিস্টেমে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোকে ‘পিএইচপি২শেল’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অননুমোদিত ব্যক্তি কোনো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। সে কারণে সফটওয়্যার আপডেট, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুঁকি যথেষ্ট কমেছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই ওয়েবসাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।