আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শুধু আয়-ব্যয়ের তথ্য দিলেই হয় না, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সম্পদ, দায় ও ব্যয়ের বিবরণীও জমা দিতে হয়। বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি কিংবা গাড়ির মালিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত আইটি-১০বি ফরমে সম্পদের বিবরণী দিতে হয়।
প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশে-বিদেশে মিলিয়ে ৫০ লাখ টাকার বেশি সম্পদের মালিক করদাতাদের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে হয়। তবে সম্পদের মূল্য ৫০ লাখ টাকার কম হলেও কিছু ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরযানের মালিকানা, সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ, বিদেশে সম্পদ থাকা কিংবা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হওয়া।
সম্পদের বিবরণীতে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক পুঁজি, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড, ঋণ ও পাওনা, ভবিষ্য তহবিল, গাড়ি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বিদেশে সম্পদ থাকলেও প্রযোজ্য নিয়মে তা উল্লেখ করতে হয়।
বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা কিংবা নির্মাণের ক্ষেত্রে জমির মূল্য, নির্মাণব্যয় এবং অন্যান্য খরচের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। উত্তরাধিকার বা উপহার হিসেবে পাওয়া সম্পদের তথ্যও যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। নতুন সম্পদ কেনার অর্থের উৎস যেন রিটার্নে ঘোষিত আয় ও সঞ্চয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেলে কর কর্তৃপক্ষ সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইতে পারে। এ কারণে সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগের কাগজপত্র এবং ঋণ বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করা উচিত।
পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের ক্ষেত্রেও মালিকানা ও অর্থের উৎসের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। তবে পরিবারের সদস্যের সম্পদ সব পরিস্থিতিতে করদাতার নিজের সম্পদ হিসেবে গণ্য হয় না; এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।
রিটার্ন জমার আগে সম্পদের বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না এবং সম্পদের মূল্য নির্ধারণে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা যাচাই করা জরুরি। করবর্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধানে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা ও নির্ধারিত ফরম দেখে রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।