প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব বাড়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান। দেশগুলোর তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি, প্রস্তুতি ও সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে পৃথক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া গ্লোবাল হিট ফোরামে এসব মূল্যায়ন প্রকাশ করে গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (জিএইচএইচআইএন) দক্ষিণ এশিয়া হাব।
মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। এতে শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বাইরে কাজ করা মানুষ বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর পাশাপাশি হৃদ্রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালের পর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় সাড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বছরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় বিপজ্জনক মাত্রার আর্দ্র গরমে কাটছে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় তাপকে ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পৃথক তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
ভারত তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় চার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি করেছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে ২৫০টির বেশি শহর ও জেলা পর্যায়ের তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। নেপালের তরাই অঞ্চলে ২০২৪ সালে ৫০ দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। ভুটানের তুলনামূলক শীতল এলাকাতেও বাড়ছে তাপমাত্রা। বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, স্থানীয় বাজেট ও শ্রমবিধিকে সমন্বিত করে তাপ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।