বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হচ্ছে। এটি নিম্নচাপ ও পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেও এর গতিপথ বাংলাদেশের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন তারা।
শনিবার সকালে পূর্বমধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি অবস্থান করছিল। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। আগামী সোমবার নাগাদ এটি গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, লঘুচাপটি শনিবারই নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরই মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে না যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নাজমুল হকের মতে, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ২৭ অক্টোবর বা তার পর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, অক্টোবরে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম হতে পারে ‘অর্ণব’
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট প্যানেলের সদস্য দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নাম দেওয়া হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের দেওয়া, যার অর্থ সাগর।
তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে একাধিক লঘুচাপ সক্রিয় থাকায় কোনটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তার ওপর নাম নির্ভর করবে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া ব্যবস্থাটির নাম হবে ‘অর্ণব’। পরেরটির জন্য তালিকায় রয়েছে ভারতের প্রস্তাবিত ‘মুরাসু’ নাম। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কা বোঝায়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় সম্ভাব্য বিভ্রান্তি কমাতে এবং একই সময়ে একাধিক ঝড়ের বিষয়ে সতর্কবার্তা সহজে শনাক্ত করতে। তবে লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা নিশ্চিত হতে আবহাওয়া পরিস্থিতির পরবর্তী পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে হবে।