রোজা আসতে এখনো প্রায় চার মাস বাকি। কিন্তু রাজধানীর বাজারে এরই মধ্যে বাড়ছে রমজানে বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি পণ্যের দাম। ছোলা, খোলা সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তি চাপে পড়ছেন ক্রেতারা। আয় না বাড়লেও সংসারের খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলার কেজি ১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৯৫ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের কেজি তিন দিনে ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে।
ভালো মানের ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫ টাকা কম। খোলা চিনির দাম দুই সপ্তাহে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা হয়েছে। আর মাবরুম খেজুরের কেজি ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা আবু সালেহ বলেন, রমজান এখনো অনেক দূরে থাকলেও ছোলা ও খেজুরের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে পরিবারের নিয়মিত বাজার করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী আকবর আলী মূল্যবৃদ্ধির পেছনে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। তার দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়ছে। এতে পেঁয়াজ, ডাল, চিনি ও ছোলার দামে প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রিতে কমিশন কম পাওয়া এবং মিল থেকে খোলা তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পণ্যের দামও বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আয় স্থির থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। রমজানের পণ্যের দাম আগেভাগে বাড়লে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কারণ আছে কি না, কিংবা কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক। আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনেও বড় কোনো সমস্যা নেই। রমজানে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিমের দাম কমলেও স্বস্তি নেই মাংস-মাছে
নিত্যপণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও রয়েছে ওঠানামা। রাজধানীতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় নেমেছে। এক সপ্তাহ আগে দুই ধরনের ডিমের দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা। মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কাতল ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছের কেজি ২৬০ টাকা ও শোল মাছের কেজি ৭০০ টাকা।
রমজানের আগে বাজারে এমন মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সাধারণ পরিবারের ব্যয় আরও বাড়বে। তাই বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা।