অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কথিত কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি তাইজুল ইসলাম মুসা। তিনি উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার কারণে পরিচিত ছিলেন তিনি।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার বিভিন্ন পথ খুঁজছিলেন তারা। এ সময় পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মুসার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীর ঘনিষ্ঠতা অর্জন করেন তিনি। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিওকে হাতিয়ার করে কিশোরীকে বারবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবার থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তাঁর মাকে চুপ থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি সর্বশেষ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ে না করার কথা জানানো এবং এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্ষতির হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরীর সৎবাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ গত ৩১ অক্টোবর কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। এতে মুসার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকেও অভিযুক্ত মুসার বিরুদ্ধে একই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মুসার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে পরে সরাসরি যোগাযোগ করবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর করা আরেকটি মামলাও রয়েছে। কিশোরীর মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু আপত্তিকর ভিডিও পাওয়ার বিষয়টিও পুলিশ যাচাই করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




