সাতক্ষীরার দেবহাটায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম দফায় মারধরের শিকার হওয়ার পর রাতে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার শিকার হন ওহিদুজ্জামান শামীম (২৩)। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার ছোটশান্তা গ্রামের শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে শামীম মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর হামলা চালায়। এতে হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বজনেরা শামীমকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং হামলার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।




